পেটের মেদ বা ভুঁড়ি নিয়ে অস্বস্তিকর বা ইতস্তত বোধ করেন না, এমন মানুষ নেহায়েত কম খুঁজে পাওয়া যাবে। প্রতিদিনের খাবার কমিয়ে আনাসহ খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা, শারীরিক ব্যায়াম করা এবং বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন পণ্যও খাওয়া হয়।
এরপরও যখন পেটের বাড়তি মেদ কমে না, তখন কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
শত চেষ্টাতেও যখন পেটের মেদ কমে না, তখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। হতে পারে, এমন কিছু ছোট ও দৈনন্দিন অভ্যাস এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর স্বাস্থ্যকর খাবার সবসময় পুষ্টিকর লেবেলযুক্ত খাবার নির্বাচন করা নয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুষ্টি ও লাইফস্টাইল মেডিসিন কোচ ও মেটাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট তানয় মান্ডোয়ারা কিছু সাধারণ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। যা ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে ভূমিকা রাখে।
১. খাদ্যতালিকায় সোডা রাখা এবং তা নিরাপদ মনে করা
পুষ্টিবিদ তানয়ের মতে, খাদ্যতালিকায় সোডাকে প্রায়ই মিষ্টি পানীয়ের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এতে কম বা ন্যূনতম পরিমাণও চিনি থাকে না।
চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে এসব গ্রহণ করলে চিনি ও ক্যালোরি কমতে অবদান থাকলেও এসব প্রতিদিনের শরীরের পানির চাহিদা পূরণের প্রধান পানীয় ভাবা ঠিক নয়।
উদ্বেগের বিষয় হলো, খাদ্যতালিকার পানীয়গুলো মিষ্টিজাতীয় হলে এসব এক সময় অভ্যাসের অংশ হয়ে ওঠে। যদি লক্ষ্য করেন, বারবার মিষ্টি খাবারের প্রতি ঝোঁক হচ্ছে, তাহলে একক কোনো পানীয়কে দোষারোপ না করে সামগ্রিক খাওয়ার অভ্যাস, ঘুম ও খাবার খাওয়ার সময়ের দিকে নজর দিতে হবে। এসবের পরিবর্তে পানিকে প্রধান পানীয় বানাতে হবে। চিনি ছাড়া অন্যান্য পানীয়ও বিকল্প হতে পারে।
আর ডায়েটে সোডা পছন্দ করলে, সেটি পরিমিত পরিমাণ করুন এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখুন।
২. রান্নার তেল কম মনে করা
রান্নার তেলকে প্রায়ই অবহেলা করা হয়। কারণ, এসব অল্প পরিমাণ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই তেল ক্যালোরি ঘন এবং রান্নায় বারবার ব্যবহার করলে তা খাবারের শক্তির পরিমাণ বাড়াতে পারে। বাসা-বাড়িতে তৈরি খাবার যেমন- সবজি, ডাল, গোটা শস্য, এসব রান্না বা গ্রেভিতে বা ভাজায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা হলে ক্যালোরি ঘন হতে পারে।
এ জন্য রান্নার সময় তেল মেপে দিতে পারেন। প্রয়োজনে গ্রিল করা, ভাঁপানো বা রোস্ট করার মতো পদ্ধতি বেছে নিন এবং ভাজা খাবার বারবার খাওয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের ফ্যাট বাদ দেয়ার চেষ্টা না করে, বরং ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিন।
৩. সবসময় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খোঁজা
পুষ্টিবিদ তানয় জানিয়েছেন, ভাত ও রুটি অনেকেরই প্রধান খাবার এবং এসব স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। কিন্তু সমস্যা কর্বোহাইড্রেট নিজে নয়, বরং এসব খাবারে যেন প্রোটিন, সবজি ও ফাইবারের তুলনায় শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে।
এ ক্ষেত্রে সুষম খাবার রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়। সবজি ও পরিমিত পরিমাণ ভাত বা রুটির পাশাপাশি ডাল, বিন, দই, পনির, ডিম ও মাছের মতো প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন। শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
৪. উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত সালাদ
বাসা-বাড়ির বাইরের খাবারে স্বাভাবিকভাবেই সালাদকে স্বাস্থ্যকর মনে করা হয়। কিন্তু এর পুষ্টিগুণ নির্ভর করে সালাদে থাকা উপাদানের ওপর। ক্রিমি ড্রেসিং, মেয়োনিজ জাতীয় সস, প্রচুর চিজ ও বেশি পরিমাণ বাদাম সালাদকে ধারণার থেকেও বেশি ক্যালোরি ঘন করে তুলতে পারে।
তবে এসব উপাদান সবসময় অস্বাস্থ্যকর নয়। বরং সমস্যা হলো, খাবারের মূল ভিত্তি সবজির হলে, মানুষ বুঝতে পারে না ঠিক কতটুকু খাচ্ছে। বরং, সবজি ও ছোলা, ডিম বা গ্রিল করা মুরগির মাংসের মতো তৃপ্তিদায়ক প্রোটিনের উৎসযুক্ত সালাদ বেছে নিতে পারেন।
৫. দিনভর স্বাস্থ্যকর বাদাম খাওয়া
পুষ্টিবিদ তানয় জানিয়েছেন, বাদাম হচ্ছে অসম্পৃক্ত ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার ও কিছু প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের পুষ্টিকর উৎস। এসব একটি সুষম ডায়েটের অংশ হতে পারে। কিন্তু এসব ক্যালোরি ঘন হওয়ায় যদি সরাসরি নাশতা হিসেবে খেতে থাকেন, তাহলে দ্রুত ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিদিন সকালে এক মুঠো, কাজের সময় এক মুঠো এবং সন্ধ্যায় এক মুঠো পরিমাণ বাদাম খাওয়া স্বাভাবিকভাবেই অল্প মনে হতে পারে। কিন্তু দিনভর যে পরিমাণ বাদাম খাওয়া হয়, তা প্রচুর শক্তি যোগ করতে পারে। বিশেষ করে কম পুষ্টিকর নাশতার পরিবর্তে বাদাম খাওয়া হলে তা অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হয়। এ জন্য সরাসরি বাদাম খাওয়ার পরিবর্তে একটি ছোট বাটিতে অল্প পরিমাণ খাবার নিন। সম্ভব হলে লবণ ছাড়া বা সামান্য প্রক্রিয়াজাত বাদাম নিন এবং কতটুকু খাবেন, সেই পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিন।
কমেন্ট বক্স